Tuesday, January 13, 2026

প্রবাসী ভোটে বড় সুযোগ, গণভোটের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে পোস্টাল ব্যালট


প্রতীকী ছবিঃ নির্বাচন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিষয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এবার প্রবাসীসহ মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। সংখ্যার হিসাবে এটি দেশের মোট ভোটারের প্রায় ১ শতাংশ হলেও, কিছু আসন এবং বিশেষ করে গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন নির্বাচন–সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে প্রবাসী রয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার, বাকিরা দেশের ভেতর থেকে নিবন্ধন করেছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসনভিত্তিক হওয়ায় পোস্টাল ভোটের প্রভাব সব জায়গায় সমান হবে না। নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অধিকাংশ আসনে জয়–পরাজয়ের ব্যবধান তুলনামূলক বড় থাকে। তবে যেসব আসনে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার বা তার বেশি, সেখানে ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত গণভোট। এই গণভোটের ফল নির্ধারিত হবে সারা দেশের ৩০০ আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের ভিত্তিতে। ফলে পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত ভোট গণভোটের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধানসংক্রান্ত প্রস্তাব কার্যকর হবে। এতে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে। এই ক্ষেত্রেও পোস্টাল ভোটের গুরুত্ব বাড়তে পারে।

ইসি সূত্র জানায়, এবার ১৮টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এসব আসনের মধ্যে প্রায় সবকটিই চট্টগ্রাম বিভাগে অবস্থিত। সর্বোচ্চ নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে, যেখানে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫, কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-১ ও ৩, ফেনী-২সহ কয়েকটি আসনে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। আরও ৯৭টি আসনে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট-৩ আসনে।

এবারই প্রথম প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর আগে আইন থাকলেও ব্যবস্থাটি সীমিত ছিল। এবার নির্বাচন কমিশন ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ চালু করেছে এবং এ লক্ষ্যে নির্বাচনী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।

নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে দেশের ভেতর থেকে রয়েছেন প্রায় পৌনে ছয় লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ছয় হাজারের বেশি কারাবন্দী।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি মনে করেন, যেসব আসনে পোস্টাল ভোট ১০ হাজারের বেশি, সেখানে যদি একটি পক্ষ এই ভোটের বড় অংশ পায়, তাহলে ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় একাধিক ধাপ থাকায় এটি অনেকটা ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর মতো। এতে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও কারসাজির অভিযোগ ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই ব্যালট পাঠানো হয়েছে—এ বিষয়টিও বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধনের সংখ্যা বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত কত ভোট পড়বে, তা ভোটের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট না পৌঁছালে তা গণনায় আসবে না। অতীতে দেখা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে নষ্ট হওয়ার হারও তুলনামূলক বেশি।

এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উল্লেখ করেছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের ওয়েস্টেজ রেট প্রায় ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি চারটির একটি ব্যালট গন্তব্যে পৌঁছায় না।

সব মিলিয়ে, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি থাকলেও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভোট পড়ার হার ও আসনভিত্তিক ব্যবধানের ওপর—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন