- ০৭ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দুই বছর আগে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি এখনো তাজা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে নতুন সিরিজে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল । আসন্ন এই সিরিজ শুধু প্রতিশোধ বা ধারাবাহিকতার নয়, বরং ঘরের মাঠে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠারও বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দলটি।
রাওয়ালপিন্ডিতে ঐতিহাসিক সেই সিরিজে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ টেস্ট খেলেও কোনো জয় ছিল না টাইগারদের। ফলে ওই সিরিজ জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে টেস্টে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের চক্রে দেশের মাটিতে ছয় ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছিল দলটি। বিপরীতে বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।
এই বাস্তবতায় নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আগে যেখানে ঘরের মাঠে স্পিননির্ভর উইকেটই ছিল প্রধান কৌশল, এবার সেখানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মিরপুরের উইকেটে ঘাস রেখে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগের জন্যই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম টেস্টে তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বাংলাদেশ।
এদিকে পাকিস্তানও তাদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আগের সিরিজে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে ভোগার পর থেকে নিজেদের উইকেট প্রস্তুতিতেও ভিন্নতা এনেছে তারা। ফলে দুই দলের মধ্যকার লড়াইয়ে এবার কৌশলগত দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
দলে নতুন মুখ হিসেবেও এসেছে চমক। ওপেনিংয়ে সুযোগ পেতে পারেন তরুণ ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান, যিনি সাদা বলের ক্রিকেটে ইতোমধ্যেই নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। পাশাপাশি মিডল অর্ডারে জায়গা পেয়েছেন অমিত হাসান, যার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পারফরম্যান্স নজর কাড়ার মতো।
দলের অনুশীলনে কোচ, অধিনায়ক ও নির্বাচকদের উপস্থিতিতে উইকেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফও উইকেট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য এক নতুন শুরুর সুযোগ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ভালো শুরু করার পাশাপাশি, অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য। আর সেই আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হয়ে আছে দুই বছর আগের স্মরণীয় জয়।