- ১৮ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার শেষ শুনানিতে উভয় পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে জুরি বোর্ড—ওপেনএআই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে আংশিক মুনাফাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করেছে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবেন তারা।
তবে বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ দিকের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।
শুনানিতে ইলন মাস্কের আইনজীবী স্টিভ মলো স্যাম অল্টম্যানকে কংগ্রেসে দেওয়া আগের কিছু বক্তব্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিশেষ করে ওপেনএআইয়ে নিজের শেয়ার বা আর্থিক সম্পৃক্ততা নিয়ে অল্টম্যানের বক্তব্য কতটা সত্য ছিল, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের মতে, এই মামলাটি শুধু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের প্রতি মানুষের আস্থার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষক কার্স্টেন কোরোসেক বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় তাদের কার্যক্রমের বড় অংশই জনসাধারণের অজানা থেকে যাচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কতটা বিশ্বাস করা যায়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, ইলন মাস্কের বিরুদ্ধেও অতীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে আদালতে তিনি তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে স্যাম অল্টম্যান নিজেকে নমনীয় ও আত্মসমালোচনামূলকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
মামলার এক পর্যায়ে অল্টম্যানকে কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে ওপেনএআইয়ে তার সরাসরি কোনো মালিকানা নেই। পরে জানা যায়, তিনি পূর্বে পরিচালিত ওয়াই কম্বিনেটরের মাধ্যমে ওপেনএআইয়ের সঙ্গে আর্থিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে এটি ছিল পরোক্ষ ও নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলার রায় শুধু ওপেনএআই বা ইলন মাস্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং গোটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ব্যবহারকারীর আস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গেও এটি জড়িয়ে আছে।