- ০৮ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শূন্যতা দূর করতে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরের জন্য পৃথক রোডম্যাপ প্রস্তুতের কাজ চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এসব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইউপি নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের বাকি সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর তথ্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় একযোগে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণের কৌশল নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালার সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্তকরণ এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সমন্বিতভাবে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধির সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হবে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাক্-প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়।