Sunday, February 8, 2026

নির্বাচনী প্রচারণায় চরম ভোগান্তিতে ঢাকার সাধারণ মানুষ


ছবিঃ কারওয়ান বাজারে নির্বাচনী প্রচারে উচ্চস্বরে বাজছে মাইক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

নির্বাচনী প্রচারণার নামে লাগামহীন মাইকিং ও উচ্চ শব্দের স্লোগানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাতের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অব্যাহত শব্দদূষণ স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় বসবাসকারী সংস্কৃতিকর্মী সাইদ খান সাগর বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রচারণার মাইকের বিকট শব্দে তিনি চরম বিরক্ত হন। রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বাধ্য হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিমালা অনুযায়ী প্রচারণায় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার বেলা ২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। শব্দের মাত্রাও ৬০ ডেসিবেলের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে এই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নাগরিকদের।

সরকার ঘোষিত নীরব এলাকা হিসেবেও পরিচিত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাতেও নিয়ম ভেঙে চলছে প্রচারণা। গুলশান এলাকার বাসিন্দা শাহ রাফায়েত চৌধুরী বলেন, প্রতি কয়েক মিনিট পরপর বিভিন্ন প্রতীকের পক্ষে মাইকিং হচ্ছে। এতে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে, অথচ কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

শব্দদূষণের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার শব্দমাত্রা অনেক এলাকায় ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবেলে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে শব্দমাত্রা ৮০ থেকে ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকত, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর তা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েই শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেওয়া একটি স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত।

হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই শব্দদূষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে নিয়মিত মাইকিংয়ের অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আবুল কালাম বলেন, উচ্চ শব্দে রোগীরা আরও কষ্ট পাচ্ছেন, অথচ কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শব্দদূষণ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। তিনি স্বীকার করেন, এই বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন