- ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের কারসাজির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের পালাতে বাধ্য হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত ‘ইন রিকগনিশন অব সার্ভিস অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস: আ স্যালুট টু আওয়ার ডিসটিংগুইশড ভেটেরানস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অতীতের কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের মতো আর কোনো নির্বাচন দেশবাসী দেখতে চায় না। তিনি বলেন, “বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচন আমরা চাই না। বোঝাপড়া হবে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে, কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়।”
শফিকুর রহমান বলেন, সচেতন জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ নির্বাচনে কারসাজির চিন্তাও করতে পারবে না। এমনকি কেউ সে ধরনের পরিকল্পনা করলেও বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী নির্বাচন জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রকৃত অর্থে গ্রহণযোগ্য কোনো কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ৩৫ থেকে ৩৬ বছর বয়সী অনেক নাগরিক জীবনে একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি নির্বাচন চায়, যেখানে ভোটাররা কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। যদি ভোট দেওয়ার নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।
নির্বাচনকে ‘আইকনিক’ করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আশ্বাস শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখতে চায় জামায়াত। তিনি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানান।
তিনি বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও দুর্নীতির কথা সামনে এসেছে। এসব অর্থের সঠিক ব্যবহার হলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা সম্ভব। কয়েকশ বা হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে—কিন্তু সেই ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এখন পর্যন্ত সেই পরিবেশ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তা যথাযথভাবে পালন না করা শুধু অবহেলা নয়, বরং দায়িত্ব লঙ্ঘনের শামিল। কেউ যদি এই দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে তাঁর উচিত সরে দাঁড়ানো।
বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমেই প্রচারিত হয়েছিল এবং এই ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের যে অবদান, তাঁদের সঠিক স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে জাতি নতুন বীর সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা–১৬ আসনের প্রার্থী আবদুল বাতেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কয়েক শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।