- ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। পিরোজপুর ও টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ ও মাগুরার শ্রীপুরে দলীয় দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মল্লিক নাছির এবং তার ভাতিজা শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু আহত হন।
আহতদের দাবি, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ভোটসংক্রান্ত বাগবিতণ্ডার জেরে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার বিকেলে উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখ, তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও ভাতিজা কাউসার শেখসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চাকদাহ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৩৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষ আলাদা সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাতের অন্ধকারে উভয় পক্ষ প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার নবাবগঞ্জের চুড়াইন এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক চলাকালে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায় বলে জানান এলাকাবাসী। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষই মামলা করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধ ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।