- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ঘটনাটিকে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে জি এম কাদের এ প্রতিক্রিয়া জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
বিবৃতিতে পরিবারের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি জানান, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রথমে খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। পরে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খনন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জি এম কাদেরের মতে, এমন ঘটনা শুধু শোকাবহ নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও উদ্বেগজনক।
মানিক পশারী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তাঁর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টিও বিবৃতিতে তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
জি এম কাদের বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির মরদেহের অসম্মান করা বা শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের আচরণ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানিক পশারীর কবর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান জি এম কাদের। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন জি এম কাদের। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
তবে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বক্তব্য বা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।