- ১৭ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নেত্রকোনা
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মোমবাতির আগুনে শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নিবারণ হাজং। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে নিবারণকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নিবারণ হাজংকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
নিবারণের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোমবাতির আগুন থেকে ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে নিবারণের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এতে তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একপর্যায়ে নিবারণের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিবারণের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। একদিকে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা, অন্যদিকে চিকিৎসার ব্যয় দুই দিক থেকেই পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে।
এ অবস্থায় রোববার রাতে হাসপাতালে যান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি নিবারণের চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তার উদ্যোগেই নিবারণকে ঢাকায় এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
দুর্গাপুরের অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিবারণের চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়া, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতাসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত রয়েছেন।
এদিকে নিবারণের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গুরুতর দগ্ধ নিবারণের সুস্থতার জন্য চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।