Monday, August 17, 2026

টানা বৃষ্টিতে আড়িয়াল খাঁ নদে ভয়াবহ ভাঙন, একদিনেই বিলীন ১০ বসতঘর


ছবিঃ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়েছে। চোখের পলকে ভেঙে যাচ্ছে বসতঘর, গাছপালা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল

বরিশালের বাবুগঞ্জে টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আড়িয়াল খাঁ নদে হঠাৎ পানি বেড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে নদীভাঙনে একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ১০টি বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালা এবং একটি সড়কের প্রায় ৫০ ফুট অংশ।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকালে নদীতীরের প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় হঠাৎ ফাটল দেখা দেয়। ভাঙন শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি এত দ্রুত অবনতি হয় যে, অনেক পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। চোখের পলকে বসতঘর ও গাছপালা নদীতে তলিয়ে যেতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

ভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। কেউ কেউ আগেভাগে গাছ কেটে এবং ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ভাঙনের তীব্রতার কারণে সবকিছু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বসতভিটা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক।

রহমতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, রোববার সন্ধ্যায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লোহালিয়া গ্রামের ১০টি বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও সড়কের একটি অংশ নদীতে চলে গেছে। মোহাম্মদ কলম সরদার, আজহার মোল্লা, মতলব হাওলাদার, হাকিম হাওলাদার, মোহাম্মদ হাসিব, সুফিয়া বেগম, কালাম সরদার ও সামসু হাওলাদারসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার থেকে বাবুগঞ্জে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে আড়িয়াল খাঁ নদে পানির প্রবাহ বেড়েছে। পানির চাপ বাড়ার পর নদীতীরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এরই মধ্যে নদীর কাছাকাছি থাকা আরও অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেন, আকস্মিকভাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন