- ০৩ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডের নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা ববি দেওল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা মজার ও অজানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। সহশিল্পীদের সঙ্গে কাটানো সেই সময়ের ঘটনাগুলোতে যেমন রয়েছে হাস্যরস, তেমনি ফুটে উঠেছে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতার গল্প।
সাক্ষাৎকারে ববি দেওল জানান, ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘গুপ্ত’–এর শুটিংয়ের সময় এক মজার পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন মনীষা কৈরালা। শীতকালীন শুটিং চলাকালে মনীষা একটি ঝালমুড়ি জাতীয় খাবার খেয়েছিলেন, যাতে প্রচুর পেঁয়াজ ছিল। এরপর একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ধারণের সময় পেঁয়াজের তীব্র গন্ধের কারণে অভিনয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে তাঁর বেশ বেগ পেতে হয়েছিল বলে জানান ববি।
ঘটনাটি স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল যে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে মজার ছলে তিনি একটি দৃশ্যের আগে আরেক সহশিল্পীকে বেশি করে পেঁয়াজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যাতে মনীষাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তবে তাঁর সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বর্তমানে বিষয়টিকে তিনি তরুণ বয়সের সরল ও হাস্যকর স্মৃতি হিসেবেই দেখেন।
শুধু মনীষা নন, নিজের প্রথম চলচ্চিত্র ‘বারসাত’–এর নায়িকা টুইঙ্কেল খান্নাকেও ঘিরে একটি মজার ঘটনার কথা বলেন ববি। দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যার কারণে তিনি প্রায়ই নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। পরে টুইঙ্কেল এক সাক্ষাৎকারে সেই অভ্যাসের কথা প্রকাশ করলে ববি বিস্মিত হয়েছিলেন। যদিও এখন তিনি বিষয়টিকে নিছক বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি হিসেবেই মনে করেন।
অন্যদিকে ‘বিচ্ছু’ ছবির শুটিংয়ের সময় রানী মুখার্জির সঙ্গে একটি ছোটখাটো মতবিরোধের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একটি গানের দৃশ্য ধারণের সময় বাতাসে রানীর চুল বারবার তাঁর মুখে এসে পড়ছিল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে সামান্য তর্ক হলেও পরবর্তীতে তা গভীর বন্ধুত্বে রূপ নেয়। ববির ভাষ্য অনুযায়ী, রানী প্রায়ই নিজের বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে সেটে আসতেন এবং তাঁদের বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে।
প্রীতি জিনতার সঙ্গেও তাঁর বন্ধুত্বের গল্প রয়েছে। ‘সোলজার’ ছবির সময় তিনি মজা করে প্রীতিকে একটি আলাদা ডাকনামে ডাকতেন। সিনেমায় একসঙ্গে কাজের আগেই তাঁদের পরিচয় ছিল এবং সেই বন্ধুত্ব এখনও অটুট রয়েছে বলে জানান অভিনেতা।
ববি দেওলের মতে, নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্র জগতে সহশিল্পীদের সম্পর্ক ছিল অনেক বেশি আন্তরিক ও পারিবারিক। কাজের ফাঁকে আড্ডা, মজা, মতবিরোধ সবকিছুই ছিল সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। সময়ের সঙ্গে পেশাদারিত্ব বেড়েছে, তবে সেই সময়ের উষ্ণতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ আজও তাঁর স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
উল্লেখ্য, রোমান্টিক নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ববি দেওল নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে নেতিবাচক ও শক্তিশালী চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি নতুন কয়েকটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রের মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।