- ০১ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীতে সশস্ত্র তৎপরতার একটি ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের দিক থেকে আসা অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে একটি নৌকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, গুলিবর্ষণ করে এবং পরে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়। ঘটনাটি সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিনজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নদীতে প্রবেশ করে একটি নৌকাকে ধাওয়া করে। তাদের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ অস্ত্র দেখা যায়। একপর্যায়ে তারা কয়েক দফা গুলি ছুড়লে লক্ষ্যবস্তু নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নৌকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে থাকা ইয়াবার চালান, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। পরে নৌকাটি নদীর মাঝখানে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা অসংখ্য মানুষ পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন এবং অনেকেই ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, শুরুতে দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে গুলির শব্দ পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় নদীতে ভাসমান অবস্থায় দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া নৌকাটিকে লক্ষ্য করে ধাওয়া ও গুলি ছোড়া হলেও অভিযুক্তরা মিয়ানমারের দিকে সরে যায় বলে জানা গেছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াবার চালান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নাফ নদীকেন্দ্রিক মাদক ও সন্ত্রাসী তৎপরতা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। তারা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধিরাও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।