- ০৯ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের ওপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, United States ও Israel–এর সঙ্গে Iran–এর সংঘাতের প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত Brent crude–এর দাম রোববার এক পর্যায়ে ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমলেও সোমবার ভোরে এটি প্রায় ১০৭.৫০ ডলারের আশপাশে লেনদেন হচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালে Russian invasion of Ukraine 2022–এর পর এই প্রথম তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump অবশ্য তেলের দাম বৃদ্ধিকে তেমন বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর করতে হলে সাময়িকভাবে তেলের দাম বাড়লেও সেটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য মূল্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব Chris Wright–ও জানিয়েছেন, জ্বালানির দামের সম্ভাব্য বৃদ্ধি সাময়িক হতে পারে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই সময়ে Iraq, United Arab Emirates ও Kuwait—যারা Organization of the Petroleum Exporting Countries (ওপেক)–এর বড় উৎপাদক—তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কারণ রপ্তানির জন্য নিরাপদ পরিবহন পথ সীমিত হয়ে পড়েছে।
এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Qatar, Saudi Arabia এবং কুয়েতের কিছু জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে।
শনিবার ইসরায়েল প্রথমবারের মতো ইরানের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে Tehran এবং আলবোরজ প্রদেশের কয়েকটি তেল সংরক্ষণাগার ও উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর জবাবে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যদি হামলা অব্যাহত থাকে তবে আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তারা আরও দাবি করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও। সোমবার এশিয়ার বাজারে বড় পতন দেখা গেছে। জাপানের Nikkei 225 সূচক ৭ শতাংশের বেশি কমেছে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচক ৮ শতাংশের বেশি নেমে গেছে। হংকংয়ের Hang Seng Index–ও প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। International Monetary Fund–এর হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।