- ০৯ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Watch (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে, চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে Israel–এর সামরিক বাহিনী। সংগঠনটি বলছে, এমন অস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, তারা সাতটি ছবি যাচাই করে দেখেছে যেখানে দক্ষিণ লেবাননের Yohmor এলাকায় আবাসিক অঞ্চলের ওপর সাদা ফসফরাস নিক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে। ৩ মার্চ সেখানে অন্তত দুটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এইচআরডব্লিউ–এর লেবানন বিষয়ক গবেষক Ramzi Kaiss বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এতে সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর মতে, এই রাসায়নিক পদার্থের দাহ্য প্রভাব মানুষের মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে, যার ফল ভুক্তভোগীদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ফেলতে পারে।
সাদা ফসফরাস বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে। ফলে এটি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে প্রকাশিত কিছু ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি নিশ্চিত হয়েছে যে ওই এলাকায় আকাশে বিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলের মাধ্যমে সাদা ফসফরাস ছড়ানো হয়েছিল। ছবিতে দেখা ধোঁয়ার গঠন ১৫৫ মিলিমিটার এম৮২৫ সিরিজের আর্টিলারি গোলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের তোলা ছবিতে আবাসিক ভবনের ছাদ ও একটি গাড়িতে আগুন নেভানোর দৃশ্যও দেখা গেছে। সংগঠনটির ধারণা, সাদা ফসফরাসযুক্ত দাহ্য উপাদান থেকে এসব আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ ইসরায়েলকে অবিলম্বে এমন অস্ত্র ব্যবহারের প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলো—যেমন United States, United Kingdom এবং Germany—কে সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে লেবাননে ইতিমধ্যে পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সম্প্রতি Beirut–এর দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে অন্তত ৩৯৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।