- ০৪ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
রিলস ও শর্ট ভিডিওর দাপটে দীর্ঘ কনটেন্টের প্রতি দর্শকের আগ্রহ কমে আসার সময়েই বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মাইক্রো-ড্রামা। এই ধারার নতুন একটি সিরিজ ‘সিলভার সাদিয়া’ সম্প্রতি মুক্তির পর দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিন্নধর্মী গল্প বলার ধরন ও চরিত্র উপস্থাপনার কারণে সিরিজটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান জানান, এমন সাড়া তিনি প্রত্যাশা করেননি। তাঁর ভাষায়, এটি প্রচলিত নায়ক–নায়িকা নির্ভর প্রেমকাহিনি নয়, বরং একটি ব্যতিক্রমী গল্প, যা দর্শক সহজেই গ্রহণ করেছেন। ইউটিউব ও ফেসবুকে দর্শকেরা ধারাবাহিকটির পরবর্তী অংশ ও দ্বিতীয় সিজন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘সিলভার সাদিয়া’তে চরিত্রটি একজন মাদ্রাসাপড়ুয়া শান্ত স্বভাবের মেয়ে, যার ভেতরে রয়েছে গোপন এক জগৎ—সে একজন দক্ষ গেমার। এই দুই বিপরীত সত্তা একসঙ্গে তুলে ধরাই ছিল অভিনেত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সাদিয়া আয়মান জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গেমিংয়ের সঙ্গে পরিচিত নন। তাই চরিত্রটি বোঝার জন্য তাঁকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। গেমিং সংস্কৃতি বোঝা, অনলাইন স্ট্রিমিং দেখা এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শেখার মাধ্যমে তিনি চরিত্রে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। পরিচালক মিরাজ হোসেনের নির্দেশনা এই কাজে তাঁকে অনেক সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, এই চরিত্রটি শুধু একজন গেমারের গল্প নয়; বরং এটি এমন অনেক তরুণ–তরুণীর প্রতিচ্ছবি, যারা প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত সুযোগের অভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে না। নিজের চরিত্রের মাধ্যমে তিনি সেই অদৃশ্য প্রতিভাবানদের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান।
সাদিয়া আয়মান বলেন, একজন শিল্পীর পরিচয় সৌন্দর্যে নয়, বরং অভিনয়ের মানে নির্ধারিত হওয়া উচিত। দর্শকের প্রশংসার মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন অভিনয়ের মূল্যায়নকে।
২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অভিনয়জগতে প্রবেশ করা এই অভিনেত্রী জানান, শুরুতে পারিবারিক সমর্থন পুরোপুরি ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি পরিবারের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাঁর কাজকে ঘিরে পরিবারও গর্ব অনুভব করে বলে জানান তিনি।
মাইক্রো-ড্রামার এই নতুন ধারায় ‘সিলভার সাদিয়া’কে অনেকে বাংলাদেশি কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি পরীক্ষামূলক কিন্তু সফল উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। দর্শকের আগ্রহ ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কারণে সিরিজটির পরবর্তী সিজন নিয়ে প্রত্যাশাও বাড়ছে।