- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ আরও জোরদার করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের দাবি, এই হামলা শুধু দেশটির জন্য নয়, পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
শুক্রবার রাশিয়া জানায়, তারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও পশ্চিমাঞ্চলের লভিভে চালানো রাতভর হামলায় নতুন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেশনিক’ ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় সংঘটিত ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং ২২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভিই জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসে। এর ধরন শনাক্তে তদন্ত চলছে।
রাশিয়া এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবার ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা জানায়। সে সময় ইউক্রেন দাবি করেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে বিস্ফোরক ছিল না এবং ক্ষয়ক্ষতি সীমিত ছিল। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই দাবি করেছিলেন, এই মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এত দ্রুতগতির যে তা প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব এবং এর ধ্বংসক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের কাছাকাছি।
যদিও কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তা এ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের মোড় ঘোরানো অস্ত্র বলে মনে করছেন না।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “ইইউ ও ন্যাটোর সীমান্তের কাছে এমন হামলা ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। রাশিয়ার এই বেপরোয়া আচরণের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত ও সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া চাই।”
এদিকে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় ও মার্কিন মিত্রদের মধ্যে আলোচনা চলছেই। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির পর ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনের একটি পরিকল্পনায় ঐকমত্য হলেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি, এ ধরনের সেনাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তথ্যসুত্রঃ আল জাজিরা