- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানে টানা বিক্ষোভের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জনগণের প্রতি ‘ঐক্যবদ্ধ থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি চলমান আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন যে, সরকার অস্থিরতা বরদাশত করবে না।
ভাষণে খামেনি দাবি করেন, এসব বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বার্থ রক্ষায় কিছু লোক রাস্তায় নেমে সরকারি স্থাপনা ও জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিদেশিদের হয়ে কাজ করা ভাড়াটে শক্তিকে তেহরান কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।” একই সঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানিদের রক্ত ঝরানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত কয়েক ডজন আন্দোলনকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মূলত অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের জেরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। তেহরানের ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ থেকেই প্রথমে প্রতিবাদ শুরু হয়, যা পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একদিকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জনগণের ‘যৌক্তিক অভিযোগ’ শোনার কথা বলেছেন। তবে সরকারের অন্য অংশ থেকে কঠোর বার্তা এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিদেশি শত্রুরা আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিফোন যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে এবং দেশটির বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন দমনের কৌশল হিসেবেই এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এসব ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টদের’ দায়ী করেছে এবং হতাহতের কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে এর কঠিন মূল্য দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের সাবেক শাহর পুত্র রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয়—বর্তমান সরকার পতন হলে বিকল্প নেতৃত্বের প্রশ্নে ওয়াশিংটন এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
রেজা পাহলভি এরই মধ্যে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই আহ্বান আন্দোলনে নতুন গতি এনেছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির এক বিশ্লেষক বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব থেকে আন্দোলনের চিত্র আড়াল করা, যা নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন সহজ করে দিয়েছে।
খামেনি তাঁর ভাষণে শেষ পর্যন্ত বলেন, বিক্ষোভকারীরা নিজেদের শহর ধ্বংস করছে শুধু অন্য দেশের একজন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য—এমন আচরণ ইরানের জন্য অগ্রহণযোগ্য।