- ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
২০২৫ সাল বিশ্ব গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন—যা ১৯৯২ সাল থেকে সংস্থাটির রেকর্ড রাখার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে। সিপিজের ভাষ্য, মোট নিহতের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের ক্ষেত্রে “দায়মুক্তির একটি স্থায়ী সংস্কৃতি” লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সিপিজে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী যে ৪৭টি লক্ষ্যভিত্তিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, তার মধ্যে ৩৮টির জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে। সংস্থাটি এসব ঘটনাকে ‘হত্যা’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
নিহতদের বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। তবে গাজা উপত্যকায় অভিযানের পাশাপাশি ইয়েমেনেও ইসরায়েলি বিমান হামলায় সংবাদপত্র কার্যালয়ের ৩১ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা কঠিন হওয়ায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিপিজে। তাদের মতে, অনেক প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কতজন সাংবাদিক ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন, তা হয়তো কখনোই পুরোপুরি জানা যাবে না।
প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–এর পাঁচ সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিসেবে “হত্যা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাজা সিটিতে সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে হামলায় আনাস আল-শরিফসহ কয়েকজন নিহত হন। এছাড়া আল জাজিরা মুবারশির সংবাদদাতা হোসাম শাবাতকে ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার শিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল কিছু সাংবাদিককে হত্যার কথা স্বীকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিপিজে এ ধরনের অভিযোগকে “প্রাণঘাতী অপপ্রচার” বলে সমালোচনা করেছে।
গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে ২০২৫ সালে সাংবাদিক হত্যার উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে সুদান ও মেক্সিকোতে। সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ৯ জন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সহিংসতায় মেক্সিকোতে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার সামরিক হামলায় চারজন ইউক্রেনীয় সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উল্লেখ করে সিপিজে বলেছে, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।