- ১৭ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইকে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে এবং সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাত পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।