- ২৮ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
প্রায় চার বছর আগে চালু করা নিরাপত্তা ফিচার “লকডাউন মোড” সম্পর্কে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছে Apple। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি যেখানে এই মোড চালু থাকা অবস্থায় কোনো আইফোন স্পাইওয়্যার দিয়ে সফলভাবে হ্যাক করা হয়েছে।
অ্যাপলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লকডাউন মোড চালু থাকা ডিভাইসে ভাড়াটে স্পাইওয়্যার হামলার কোনো সফল উদাহরণ তাদের জানা নেই। এই মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিশ্চিত করল যে তাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর।
২০২২ সালে চালু করা লকডাউন মোড মূলত এমন একটি অপশন, যা ব্যবহারকারীরা নিজেরাই চালু করতে পারেন। এটি চালু থাকলে আইফোনসহ অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসের কিছু ফিচার সীমিত করে দেওয়া হয়, যেগুলো সাধারণত হ্যাকিং বা স্পাইওয়্যার আক্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এই ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে এমন স্পাইওয়্যার হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে, যেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে NSO Group, Intellexa এবং Paragon Solutions–এর মতো প্রতিষ্ঠান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যাপল স্বীকার করেছে যে তাদের কিছু ব্যবহারকারী স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে নিয়মিত নোটিফিকেশন পাঠাচ্ছে। জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি দেশের ব্যবহারকারীদের এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন Amnesty International–এর নিরাপত্তা গবেষকরাও জানিয়েছেন, লকডাউন মোড চালু থাকা অবস্থায় আইফোনে সফল স্পাইওয়্যার আক্রমণের কোনো প্রমাণ তারা পাননি। একই ধরনের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে Citizen Lab–এর গবেষকরাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লকডাউন মোড আইফোনের “অ্যাটাক সারফেস” উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে হ্যাকারদের জন্য আক্রমণ চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ডিভাইসে এই মোড চালু থাকলে স্পাইওয়্যার নিজেই আক্রমণের চেষ্টা বন্ধ করে দেয়।
যদিও প্রযুক্তিগতভাবে সব ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লকডাউন মোড এখন পর্যন্ত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ঝুঁকি থাকলে এই ফিচারটি চালু রাখা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।