- ১৯ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের কামারচর গ্রামে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নেতা ইয়াছিন আরাফাত মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তিনি। এসবের প্রতিবাদ করলে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন হালিমা বেগম, খলিলুর রহমান, মাহবুব আলম, নাছির উদ্দীন নয়ন, কামাল উদ্দিন, কামাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামির হোসেনসহ অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে জমি বিক্রির কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নেন ইয়াছিন আরাফাত। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিচার চাইতে গেলে তিনি অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে কামাল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকাবাসী একসময় ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তিনি আটককারীদের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় নেতারা বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তারা।
এদিকে গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদল ইয়াছিন আরাফাত-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আরাফাত। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, এলাকায় অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি পক্ষ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি দলীয় নোটিশের জবাব দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।