Monday, January 19, 2026

ক্ষমতায় নয়, গণভোটের বার্তা নিয়েই নির্বাচনে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম


ছবিঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করলেও আসন জেতাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয় বলে স্পষ্ট জানালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্যমতে, এ নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ মূলত গণভোটের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

আজ বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রথম ধাপে ঘোষিত ১২৫টি আসনের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি নিজে ঢাকা–১১ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য যদি শুধু আসন পাওয়া হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই কোনো জোটে যুক্ত হতাম। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়া বা সিট সংখ্যা বাড়ানো এসবই আমাদের অগ্রাধিকার নয়।”

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় এনসিপির পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে এবং অন্য দলগুলো প্রচারণায় অর্থব্যয়ের সীমা ভঙ্গ করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দেখছি অস্ত্রের মহড়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি–জামায়াত উভয় দলের দিক থেকেই সহিংসতার পুরোনো সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন, বিশেষত প্রচারণার খরচের হিসাব যাচাই–বাছাইয়ে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “বহু জায়গায় মাফিয়া ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” তিনি আরও জানান, এনসিপির মনোনয়ন তালিকা গঠনে নারী, সংখ্যালঘু, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মনোনীত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আগামী নির্বাচনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ নির্বাচন মূলত গণভোট। মানুষ হ্যাঁ না–এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেবে। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অংশ নিচ্ছি না। সিট–সংখ্যা আমাদের লক্ষ্যও নয়।” তিনি আরও বলেন, “শুধু সিট নিশ্চিত করতে চাইলে আমরা যেকোনো জোটে যেতাম। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়া।”

নাহিদ ইসলাম ব্যাখ্যা করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের সংস্কার করত, তরুণ প্রজন্মের দাবি প্রতিফলিত করত, তাহলে এনসিপি গঠনের প্রয়োজন হতো না। “আমরা সাত মাস অপেক্ষা করেছি। তারা নিজেদের দলাদলি নিয়েই ব্যস্ত ছিল। জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি বলেই এনসিপির উদ্ভব,” বলেন তিনি।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, “গণ–অভ্যুত্থানের প্রধান দাবি ছিল বিচার ও সংস্কার। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আজ এসব এজেন্ডা এড়িয়ে নিজেদের দলীয় ইস্যুকেই বড় করে তুলে ধরছে।” এনসিপি ঘোষিত ১২৫ আসনের প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি জানান, দুই দিনের মধ্যেই বাকি আসনগুলোও চূড়ান্ত হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন