- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষক মনির মোল্লা (৫৫) হত্যা মামলার জট খুলে ফেলেছে জেলা পুলিশ। ক্লুলেস মনে হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল বহু দিনের ব্যক্তিগত বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি ও নারীসংক্রান্ত জটিল সম্পর্ক যা শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত পরিণতিতে গড়ায়। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন জানান, গত ৬ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে চারটায় মনির মোল্লা বাড়ি থেকে পাশের চায়ের দোকানে যাচ্ছিলেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বাচল সিটির ২৪ নম্বর সেক্টরের ফরেস্ট বিট অফিসের পূর্ব পাশের মাঠে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’পায়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।
ঘটনার পর উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্প ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল তৈরি করে এবং লাশ মর্গে পাঠায়। মামলাটি অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হলেও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে ছায়া তদন্তের নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত টিম তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে হত্যার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। তদন্তে উঠে আসে ভিকটিম মনির মোল্লা এবং বেদন মৃধা ছিলেন শৈশবের বন্ধু। নারীসংক্রান্ত বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হওয়া ক্ষোভই এ হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেরণা।
পুলিশ সুপার জানান, বেদন মৃধাকে ৮ ডিসেম্বর দুপুরে জয়দেবপুরের টেকপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, যেখানে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টি উঠে আসে।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।