- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য এসব ব্যাংকের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা গণনা করা হবে না। আন্তর্জাতিক ব্যাংক রেজোল্যুশন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ প্রয়োগের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সব আমানত হিসাব নতুন করে হিসাবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই পাঁচটি ব্যাংক একত্র হয়ে নতুনভাবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে কার্যক্রম শুরু করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আলোচ্য দুই বছরে এসব ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়ে। ফলে আমানতের বিপরীতে মুনাফা দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে এসব ব্যাংকে ৭ থেকে ৯ শতাংশ হারে মুনাফাভিত্তিক আমানত রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আমানতের ওপর যে মুনাফা যোগ হয়েছে বা যোগ হওয়ার কথা ছিল, তা বাদ দিয়ে আমানতের স্থিতি পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, পাঁচ ব্যাংকে মোট প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে এসব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। এই আর্থিক বৈষম্যই রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার সুষম বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরের আমানত স্থিতিকে ভিত্তি ধরে চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব হিসাব হালনাগাদ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ব্যাংক প্রশাসকদের বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আমানতকারীরা গত দুই বছরে অর্জিত মুনাফা হারাবেন এবং তাদের আমানতের প্রকৃত স্থিতিও কমে আসবে। এর আগে একীভূত এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্যে নামিয়ে আনা হয়, ফলে উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিনিয়োগ হারান।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে আমানতকারীদের জন্য কঠিন হলেও দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফেরাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কী ধরনের বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।