- ১১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া, যাকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তাঁদের তিন মেয়ে—মীম, মারিয়া ও ফারিহা, এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। ফোরকান মিয়ার গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাত পর্যন্ত পরিবারটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও শনিবার সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুদের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। আর শারমিনের হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তার দেহ জানালার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শাহিনুর আলম বলেন, প্রায় এক বছর আগে ফোরকান মিয়া পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া ওঠেন। তদন্তের শুরুতেই পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।