- ১৬ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক, কুড়িগ্রাম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রাণহানি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ঝড়ের সময় নৌদুর্ঘটনায় এক নৌকার মালিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে শেরপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় কৃষকদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিলমারী উপজেলার কড়াইবরিশাল ইউনিয়নের গাজীরপাড়া এলাকায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রবল দমকা হাওয়ার সময় ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে বাঁধা নৌকা দেখতে যান দুই নৌকার মালিক মিন্টু মিয়া ও ফরিদ হোসেন।
ঝড়ের তীব্রতায় ঘাটে বাঁধা একটি নৌকার দড়ি ছিঁড়ে গিয়ে সেটি মিন্টু মিয়ার শরীরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই সময় ঝড়ের মধ্যে ফরিদ হোসেন নদীতে পড়ে যান এবং এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাত থেকেই নদীতে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা ও শ্রীবরদী উপজেলায় হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধান, ভুট্টা, কলা ও বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ভুট্টা গাছ ভেঙে পড়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক রাজিবুল ইসলাম বলেন, তিনি ঋণ নিয়ে কয়েক একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অন্যদিকে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় শনিবার রাতের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা এবং বোরো ধানের জমির ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে কিছু বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামতের জন্য কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।