Wednesday, January 21, 2026

কাবুলের সুরক্ষিত এলাকায় চীনা রেস্তোরাঁয় বিস্ফোরনে নিহত ৭


ছবিঃ আফগানিস্তানের কাবুলের শার-ই-নও এলাকায় একটি বিস্ফোরণের পর ভাঙা কাচে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা চলাচল করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত চীনা পরিচালিত রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এক চীনা নাগরিকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাজধানীর শার-ই-নও বাণিজ্যিক এলাকায় একটি হোটেলের ভেতরে থাকা রেস্তোরাঁটিতে বিস্ফোরণটি ঘটে। এলাকাটিতে বিভিন্ন অফিস ভবন, বিপণিবিতান ও একাধিক দূতাবাস থাকায় এটি কাবুলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানান, বিস্ফোরণটি রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের কাছাকাছি স্থানে ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক, যার নাম আইয়ুব বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ছয়জন আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। রেস্তোরাঁটি চীনা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য খাবার সরবরাহ করত এবং এটি এক চীনা মুসলিম ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ, তার স্ত্রী ও আফগান অংশীদার আবদুল জাব্বার মাহমুদের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হতো।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ফলে রেস্তোরাঁ ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আশপাশের রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর আফগান শাখা। সংগঠনটির দাবি, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাদের প্রচারমাধ্যমে বলা হয়, চীনের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে চীনা নাগরিকদের তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে। যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পশ্চিমা বিশ্বের অপপ্রচার বলে দাবি করে।

ইতালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি’ জানিয়েছে, কাবুলে তাদের পরিচালিত একটি হাসপাতালে বিস্ফোরণে আহত ২০ জনকে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাতজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। সংস্থাটি জানায়, আহতদের মধ্যে চারজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয়।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর কাবুল ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কমেছে। তবে ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং মাঝে মাঝে হামলা চালাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন