- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, ডিম, তেল, আটা-ময়দা থেকে শুরু করে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা বাড়তি চাপে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে বেশ কিছু পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিমের দাম প্রতি ডজনে প্রায় ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর মাঝারি মানের চালের কেজিপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে গিয়ে ক্রেতা ফরহাদ হোসেন বলেন, “এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। আয় তো বাড়েনি, তাই সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানির দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। এর প্রভাব প্রথমে পাইকারি বাজারে পড়ে, পরে খুচরা পর্যায়ে এসে দাম বাড়ায়। ইতোমধ্যে ট্রাক ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা পণ্যের সরবরাহ ব্যয় বাড়িয়েছে।
বর্তমানে মাঝারি মানের চাল (পাইজাম/লতা) প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকার মধ্যে। খোলা আটা ৪২ থেকে ৪৬ টাকা এবং ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি বেড়ে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায় পৌঁছেছে।
সবজির বাজারেও একই চিত্র। বেশির ভাগ সবজির দাম ৭০ টাকার ওপরে। বেগুন, পটল, বরবটি, করলা—প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-এর বাজারদর পর্যবেক্ষণেও পণ্যমূল্য বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি তৈরি করে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও পণ্যের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সহ্য করা হবে না।
এদিকে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পণ্যের দাম বাড়ার কারণে আগের তুলনায় ক্রেতা কমে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিস কম কিনছেন বা বিকল্প খুঁজছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির উচ্চ মূল্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। তাই বাজার তদারকি জোরদার ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।