- ২১ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ গ্রাহকের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী এক বছরে এসব জ্বালানি কিনতে ভোক্তাদের অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব উল্লেখ করে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা গত রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এসব জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, যা পরিবহন, কৃষি সেচ, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চাহিদা ও ব্যবহার প্রবণতা বিবেচনায় আগামী বছরে জ্বালানি তেলের ব্যবহার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
হিসাব অনুযায়ী, নতুন দামে শুধু ডিজেলেই অতিরিক্ত ব্যয় বাড়তে পারে প্রায় ৮ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। অকটেন ও পেট্রোলের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত যানবাহন ও শহুরে পরিবহনে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পরিবহন খাতে পড়বে, যার ফলে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং পরোক্ষভাবে বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎবিহীন এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কৃষি খাতে সেচ পাম্প ও যান্ত্রিক সরঞ্জামের জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।