- ০১ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস মিলিয়ে নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে অভিভাবক সমাজে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে ক্লাস পরিচালনার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু দিন অনলাইনে এবং কিছু দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির ওপর চাপ বাড়ছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই হাইব্রিড পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে, অন্যদিকে শিক্ষাকার্যক্রমও বন্ধ থাকবে না। ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো কেবল অফলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে চাকরিজীবী বাবা-মায়েরা মনে করছেন, সন্তানদের একা বাসায় রেখে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা ও মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
অনেকে আশঙ্কা করছেন, ছোট শিশুদের হাতে মোবাইল বা ইন্টারনেট সুবিধা তুলে দিলে তাদের ডিভাইস নির্ভরতা বাড়তে পারে। আবার গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত দিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
কিছু অভিভাবক মনে করেন, অনলাইন ক্লাস চালুর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজের সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে শিশুদের দেখভাল ও পড়াশোনা দুটোই নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অন্যদিকে কেউ কেউ বলেছেন, সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক দিন সরাসরি ক্লাস নিয়ে বাকি দিনগুলোতে বাড়তি বাড়ির কাজ দেওয়াও একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনাকে স্বাগতও জানিয়েছেন অনেকেই। তাদের মতে, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে আংশিক অনলাইন পদ্ধতিতে চালু রাখা ভালো বিকল্প হতে পারে।
জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার একাধিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময় পরিবর্তন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো বিষয় রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের আগে নানা দিক বিবেচনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।