Thursday, February 5, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড


ছবিঃ সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা ও আরও একজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ের সঙ্গে সঙ্গে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।

অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাসুদুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ একাধিক প্রসিকিউটর। চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আমির হোসেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে পুলিশ ভ্যানে করে তাঁদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ভয়াবহ এই ঘটনার সময় একজন ব্যক্তি জীবিত ছিলেন, যাকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন আরও একজন আন্দোলনকারী নিহত হন।

এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং ডিজিটাল আলামত হিসেবে দুটি পেনড্রাইভ উপস্থাপন করা হয়। মোট ৬২ জনকে সাক্ষী করা হলেও ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন