- ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেও দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর ত্যাগের পথ ধরেই বাংলাদেশ আজ গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (জুমার নামাজের পর) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মানুষের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, সেই সময়টি তিনি দেখে যেতে পারেননি।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, বিএনপিকে একটি শক্ত রাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড় করাতে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যা তাঁর জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে এমন অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে জুমার নামাজের পর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন অসংখ্য মানুষ। বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পুরো এলাকায় ছিল আবেগঘন পরিবেশ; অনেককেই চোখের জল ফেলতে দেখা যায়।
ভোলা জেলার লালমোহন থেকে আসা ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম বলেন, নেত্রীর জানাজায় উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের জন্য নিবেদিত এক নেত্রী এমন মানুষ আর সহজে পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুপুরের দিকে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হক। জিয়ারত শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।
এ সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন ছিল দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য নিবেদিত। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।