- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘ অপেক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি কেন্দ্রের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ২৫ কেন্দ্রের ফল এখনও গণনাধীন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে বোটানি বিভাগের কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি। এর আগে চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের একাধিক কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ১৪ কেন্দ্রের সামগ্রিক ফলাফলে ভিপি (সহসভাপতি) পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিব স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জিএস (সাধারণ সম্পাদক) ও এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
১৪ কেন্দ্রের ফল অনুযায়ী ভিপি পদে এ কে এম রাকিব পেয়েছেন মোট ১ হাজার ৬৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৪ ভোট। ফলে এখন পর্যন্ত ২৪৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন রাকিব।
জিএস পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্যের প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ ১৪ কেন্দ্র মিলিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৬১২ ভোট। বিপরীতে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কোবরা পেয়েছেন ৭৯৩ ভোট। এ হিসাবে ৮১৯ ভোটের বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আরিফ।
এজিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন মোট ১ হাজার ৪৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ১ হাজার ২৯৭ ভোট। এই পদে মাসুদ এগিয়ে আছেন ১৬৮ ভোটে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ভূগোল ও পরিবেশ, নৃবিজ্ঞান, ফার্মেসি, সিএসই, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি ও মার্কেটিংসহ একাধিক কেন্দ্রে অদম্য জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থীরা জিএস ও এজিএস পদে ভালো ফল করেছেন। তবে ফিন্যান্স, চারুকলা, দর্শন ও বোটানি বিভাগের মতো কয়েকটি কেন্দ্রে ভিপি ও এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
কিছু কেন্দ্রে ফলাফল ছিল বেশ কাছাকাছি। প্রাণীবিদ্যা বিভাগ কেন্দ্রে ভিপি পদে দুই শীর্ষ প্রার্থী সমান ভোট পেয়ে সমতায় রয়েছেন, যা নির্বাচনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ফল ঘোষণা করা হবে। সব কেন্দ্রের ফল প্রকাশের পরই জকসুর পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ভোট গণনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা গেছে। এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি ফলাফল প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।