- ২০ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েল এবার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়েছে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহিকে। জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে আফ্রিকার এই স্বঘোষিত রাষ্ট্রটির সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহি ইসরায়েলে পৌঁছান, যা সোমালিল্যান্ডের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, যদিও সোমালিয়ার অংশ হিসেবে দেশটি এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়।
সফরের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আবদুল্লাহি বলেন, “৩৫ বছর ধরে আমরা বিশ্বের স্বীকৃতি চেয়ে আসছি। ইসরায়েল প্রথম আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে।” জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ছোট জাতি হিসেবে ইহুদিদের ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা এ ধরনের স্বীকৃতিকে গুরুত্ব দেয়।
সফরের অংশ হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান—বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থান—ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা এবং লোহিত সাগর বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চল ইসরায়েলের জন্য বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সফরের সময় সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। একই সঙ্গে তিনি থিওডর হারজেলের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এছাড়া সফরকালে পশ্চিম জেরুজালেমে সোমালিল্যান্ড দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রাখে।
এই ঘটনায় ফিলিস্তিন, আরব লীগ এবং ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
অন্যদিকে সোমালিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের এই সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের গভীর সমীকরণের অংশ। তবে এই সম্পর্ক উভয় দেশের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।