Saturday, June 20, 2026

এনবিআরের অটোমেশনেও থামছে না বন্ড সুবিধার অপব্যবহার


ফাইল ছবিঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। অনলাইনভিত্তিক ইউটিলাইজেশন পারমিট (ইউপি), বন্ড লাইসেন্স প্রদান এবং বিভিন্ন সেবা অটোমেশনের আওতায় আনার ফলে সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ার পরও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে থাকে। এসব কাঁচামাল উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা থাকলেও কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অনুযায়ী এ সুবিধার অপব্যবহার করছে। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে আসা অনিয়মের তুলনায় প্রকৃত পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার স্থানীয় শিল্প, বিশেষ করে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের জন্য প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী উদ্যোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এদিকে বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল ও লজিস্টিক সংকট কার্যকর নজরদারির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত অডিট, পরিদর্শন এবং প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত গতি আনা যাচ্ছে না।

এনবিআরের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত অডিট ও প্রিভেন্টিভ কার্যক্রমে শত শত কোটি টাকার শুল্ক অনিয়ম ও ফাঁকির তথ্য শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রাজস্বও আদায় করা হয়েছে। তবে বেশ কিছু মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কিছু পণ্য নির্ধারিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার না হয়ে খোলা বাজারে চলে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি বৈধ ব্যবসা ও বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

রপ্তানি খাতের প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু অটোমেশন যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত অডিট, গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকর অভিযান জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সৎ ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানো গেলে বন্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব সুরক্ষাও আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন