- ২০ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরু, মাঝারি ও মোটা—সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের চালের দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে চাল কিনতে হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও দাম সমন্বয় করছেন।
অন্যদিকে চালকল মালিকদের ভাষ্য, বর্তমানে কৃষকদের হাতে ধানের মজুত খুবই কম। মৌসুমের অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও মজুতকারীদের কাছে চলে গেছে। ফলে ধানের বাজারে দাম বেড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, উন্নতমানের সরু চালের পাশাপাশি মাঝারি ও মোটা চালের দামও আগের তুলনায় বেশি। ভোক্তাদের অভিযোগ, মৌসুমে উৎপাদন ভালো হওয়ার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্যসুবিধা মিলছে না।
চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের মূল্যবৃদ্ধি ছাড়াও সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রম বাজারে প্রভাব ফেলছে। সরকারের ক্রয় কার্যক্রমের কারণে উন্মুক্ত বাজারে ধানের সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় দাম বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলনামূলক আশাব্যঞ্জক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সংকট নেই। তাদের মতে, বাজারে সামান্য মূল্য ওঠানামা স্বাভাবিক বিষয় এবং তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
খাদ্য খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি গুদামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল ও গম সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি চলমান সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের মজুত আরও বাড়ছে। প্রয়োজন হলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চাল দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলে। তাই বাজার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি, সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং অস্বাভাবিক মজুত বা কারসাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
বর্তমানে চালের বাজারে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে তা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।