- ১১ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে সেটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশের জনগণ অবাধ নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব মৌলিক বিষয়ে সংবিধান সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বর্তমান সংসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া জনগণের নির্দেশ অগ্রাহ্য করা হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী হবে। এতে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বেড়েছে, যা একটি ভারসাম্যহীন রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কারের যে দাবি জোরালো হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেরি হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামতে পারে। প্রয়োজনে নতুন করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও উঠতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর সংস্কার অপরিহার্য। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।