- ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বগুড়া
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) জেলা কার্যালয় দখল করে টানানো ব্যানার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। কার্যালয় দখলের সঙ্গে জড়িতদের ডেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন। তবে নির্দেশের পরও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কার্যালয়ের ফটকে দখলকারীদের ঝুলানো তালা দেখা গেছে।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল সানীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার মধ্যরাতে এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মাইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তবে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে—জাপার কার্যালয় দখলের ঘটনাই এর মূল কারণ।
এ বিষয়ে এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ জানান, সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, জাপার কার্যালয় থেকে ব্যানার সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আবদুল্লাহ আল সানী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘বগুড়া ইনকিলাব মঞ্চ সমন্বয় কমিটি’র নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তবে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, বগুড়ায় ইনকিলাব মঞ্চের কোনো সাংগঠনিক কমিটি নেই। তিনি আরও লেখেন, ইনকিলাব মঞ্চের নামে কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল সানী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ গঠনের লক্ষ্যে একটি সমন্বয় কমিটি করা হয়েছিল। চাঁদাবাজির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জাপার কার্যালয় দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁকে এনসিপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে তিনি আগেই দল থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে জেলা আহ্বায়ককে লিখিত আবেদন করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে এনসিপির কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত জাপার জেলা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সেটি দখলে নেওয়া হয়। এ সময় কার্যালয়ে টানানো একটি শোক ব্যানার সরিয়ে সেখানে অন্য দুটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দখলকারীদের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিতে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে হামলা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয় এবং জাপার কার্যালয়কে এনসিপির প্রচারণা অফিস হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় দখলের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যানার অপসারণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর পরিকল্পিতভাবে বগুড়া জেলা কার্যালয় দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও সোমবার বিকেল পর্যন্ত কার্যালয় দখলমুক্ত হয়নি। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।