- ১১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন সাংগঠনিক বাস্তবতা বিবেচনায় জোটের রাজনীতিতেই এগোতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের সঙ্গে থেকেই গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি।
এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এখনো দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ততটা শক্তিশালী না হওয়ায় এককভাবে সেই লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি ১১–দলীয় ঐক্যের ব্যানারেও রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মতে, নতুন রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কাজ জরুরি। কিন্তু বর্তমানে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে নতুন শক্তির জন্য দ্রুত বিকাশ সহজ হচ্ছে না।
তবে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি নিয়ে এনসিপির ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। নির্বাচনের আগে এই জোটকে কেন্দ্র করে দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন এবং কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সমালোচকদের দাবি, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়কে দুর্বল করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে এনসিপির কিছু নেতার অতীত ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
যদিও এনসিপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কৌশলগত রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ, আদর্শগত একীভূত অবস্থান নয়। তারা দাবি করছেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রশ্নে তাদের আলাদা অবস্থান রয়েছে।
এর উদাহরণ হিসেবে দলটির নেতারা সংসদে একটি সাম্প্রতিক বিলের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা উল্লেখ করছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বিতর্কিত দলগুলোর নাম বহাল রেখে আনা একটি আইনের বিষয়ে জামায়াত আপত্তি তুললেও এনসিপি এতে আপত্তি জানায়নি।
এদিকে দল থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দলে ফিরে এসেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জোট রাজনীতির ভেতরে থেকেও নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখা।