Friday, January 23, 2026

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় নিশ্চিহ্নের পথে রাস আইন আল-আউজা গ্রাম


ছবিঃ পশ্চিম তীরের রাস আইন আল-আউজা গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিজেদের মালপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় তারা নিজ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাহমুদ ইলিয়ান/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্বাঞ্চলে জেরিকো গভর্নরেটের অন্তর্গত বেদুইন গ্রাম রাস আইন আল-আউজা কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে। টানা সহিংসতা, ভয়ভীতি, জীবিকা ধ্বংস এবং মৌলিক সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের শতাব্দীপ্রাচীন বসতভিটা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামের প্রায় ৬৫০ বাসিন্দার মধ্যে অন্তত ৪৫০ জন এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা, পশু চুরি, বিষ প্রয়োগ, পানির উৎস দখল এবং অব্যাহত হুমকির মাধ্যমে গ্রামটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।

গ্রামবাসী নাইফ গাওয়ানমেহ (৪৫) বলেন, “একসময় এখানে জীবন ছিল। এখন চারদিকে শুধু শূন্যতা। সবাই চলে গেছে, কেউ আর থাকতে পারছে না।” তার মতে, টানা দুই বছরের মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় মানুষ ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাস আইন আল-আউজা ছিল জর্ডান উপত্যকার অন্যতম শেষ ফিলিস্তিনি পশুপালনভিত্তিক গ্রাম। একসময় গ্রামটির কাছে থাকা ঝরনা ও বিস্তীর্ণ চারণভূমি এই জনপদের জীবনধারার মূল ভিত্তি ছিল। কিন্তু গত এক বছর ধরে বসতি স্থাপনকারীরা ঝরনাটিকে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করে পানির প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। ফলে মানুষ ও গবাদিপশু উভয়ই চরম সংকটে পড়ে।

গ্রামটির পশুসম্পদও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে যেখানে প্রায় ২৪ হাজার ভেড়া ছিল, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে তিন হাজারেরও নিচে। অনেক পশু চুরি হয়েছে, কিছু বিষ প্রয়োগে মারা গেছে, আর বাকিগুলো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

এদিকে বসতি স্থাপনকারীদের নতুন এক ধরনের তথাকথিত ‘চারণভিত্তিক আউটপোস্ট’ স্থাপন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এসব আউটপোস্ট থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গ্রামবাসীদের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং ঘরের একেবারে কাছেই পশু চরাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সহিংসতা কার্যত এক ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ হলেও বাস্তবে সেগুলো ভেঙে ফেলা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা বাহিনীর নীরব উপস্থিতি বা সুরক্ষা দেখা যায়।

চাপের মুখে গ্রাম ছাড়ার সময় অনেক পরিবার তাদের ঘরের আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলেছে, যাতে বসতি স্থাপনকারীরা সেগুলো ব্যবহার করতে না পারে। যারা এখনও রয়ে গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা—যারা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছে।

একজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা এই মাটিতেই জন্মেছি, এই মাটিতেই বড় হয়েছি। কিন্তু এখন বাঁচার জন্যই আমাদের চলে যেতে হচ্ছে।”

এ ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাস আইন আল-আউজার পরিস্থিতি পশ্চিম তীরের বহু গ্রামীণ ফিলিস্তিনি জনপদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যেখানে সহিংসতা ও দখল নীতির ফলে ধীরে ধীরে একটি একটি করে জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন