- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি আর নেই। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে সরকারিভাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তবে কয়েক দিন ধরে তিনি ছিলেন লাইফ সাপোর্টে।
আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে শরিফ ওসমান হাদি আলোচনায় ছিলেন। ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন হামলাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
জানা গেছে, হামলার এক মাস আগেই তিনি হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন নম্বর থেকে নিয়মিত হুমকি আসছিল। তবুও তিনি রাজপথের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে উঠে আসা শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে তিনি রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন, টেলিভিশন টক শো এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও র্যাব ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে থাকা সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে শঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাঁর জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।