- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল আসামিকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশীতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে মতিঝিল এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে গুলি চালান ফয়সাল করিম মাসুদ। ঘটনার পর তিনি মোটরসাইকেলযোগে আগারগাঁওয়ে তাঁর বোনের বাসায় যান। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বের হয়ে মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতেই সড়কপথে ময়মনসিংহ হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যান।
পুলিশের অভিযোগ, এই সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছেন সিবিয়ন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এ অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, রিমান্ড আবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—প্রযুক্তিগত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যাচ্ছে, আসামিরা মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীদের অবৈধ পথে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, সিবিয়ন দিউ হালুয়াঘাট ও ধোবাউরা উপজেলার সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য জুয়েল আড়েংয়ের ভাগনে। তাঁর বিরুদ্ধে হালুয়াঘাট, ধোবাউরা ও শেরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মানুষ ও মালামাল পারাপারের সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা পরিকল্পনা ও পরামর্শ দিয়ে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছে, তা উদঘাটন করা জরুরি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদের শনাক্ত করা এবং হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।