- ১০ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে রেফারিং, ভিএআর এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন ফিফা তীব্র সমালোচনার মুখে, ঠিক তখনই সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন একটি বিতর্ক সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ দাবি করেছে, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করতে নীরব কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত ছিল ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ শুরু হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
খবরে আরও বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সমর্থনে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতিও নিয়েছিল এফএ। তবে ফিফা সভাপতিকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক আলোচনার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই সমর্থনপত্র পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।
এফএর এই নীরব অবস্থান ব্রিটিশ ফুটবল অঙ্গনেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইনসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসনের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পেছনে এফএর কৌশলগত কারণ রয়েছে। আগামী ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে ইংল্যান্ডকে অন্যতম সম্ভাব্য স্বাগতিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির। এ কারণে ফিফা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টানা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে নামবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনের পর ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।:::