- ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারতের পণ্যের ওপর শুল্ক সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ইউরোপের বাজারে কম খরচে প্রবেশ করতে পারবে, যা বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে গত মঙ্গলবার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদ অনুমোদন দিলে, চুক্তি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হবে। চুক্তির আওতায় ২৭টি ইইউভুক্ত দেশের বাজারে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের অধিকাংশ শুল্ক হ্রাস বা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। বিশেষ করে পোশাকপণ্য, চামড়াজাত, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়না শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশাধিকার পাবে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দ্রুতই ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। তার ভাষ্যে, “বাংলাদেশ কীভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে ইউরোপে বড় বাজার দখল করেছে—এই প্রশ্ন আমাদের করা হতো।”
বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এটি একটি নতুন প্রতিযোগিতা হলেও শিল্পপতিদের মতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হবে না। বিজিএমইএ পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, “বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প উৎপাদন ক্ষমতা, মান ও খরচের দিক থেকে ভারতের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। ভারতের সঙ্গে আমাদের পণ্যের ধরনও পুরোপুরি মিলছে না।”
তবে তিনি সতর্ক করেছেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে ক্রেতাদের দিক থেকে ১০–১২ শতাংশ দাম কমানোর চাপ আসতে পারে। এজন্য খরচ কমানো, ঋণের সুদহার হ্রাস, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইইউ–ভারত চুক্তি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, সুসংগঠিত নীতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বজায় থাকলে এই প্রতিযোগিতা মোকাবিলা সম্ভব।