- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লার হোমনা থানার হেফাজতে থাকা এক নারী আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে থানার নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত নারীর নাম হামিদা, ডাকনাম ববিতা (৩২)। তিনি হোমনা উপজেলার ঘনিয়ারচর গ্রামের খলিল মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামিদা তার সতীনের ছেলে সায়মন (১১) কে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। এতে শিশুটির পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা হামিদাকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই দিন রাতে আহত শিশুটির চাচা স্বপন মিয়া বাদী হয়ে হামিদার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
হোমনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। তার সঙ্গে চার বছরের একটি শিশু থাকায় তাকে হাজতখানায় না রেখে থানার নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের একটি কক্ষে রাখা হয়। সেখানে আরেক নারী আসামি এবং একজন নারী গ্রাম পুলিশ দায়িত্বে ছিলেন।
এএসপি জানান, ভোরের দিকে সবার অগোচরে হামিদা নিজের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
থানা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। এরপর ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় থানার নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত শুরু হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।