- ০৬ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবটিক্স খাতে বিনিয়োগের ঢেউ এখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের দ্রুত অগ্রগতির ফলে এই খাতে শত শত কোটি ডলারের নতুন তহবিল প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের স্টার্টআপগুলোই নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চীনের শেনঝেনভিত্তিক এআই২ রোবোটিক্স প্রায় ৭৩৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনভিত্তিক অ্যাপট্রনিক্সও ৯৩৫ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ পেয়েছে, যার ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এদিকে সান জোসে-ভিত্তিক ফিগার এআই এই বছরই এক বিলিয়ন ডলারের সিরিজ সি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে নিয়ে গেছে। এসব বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হিউম্যানয়েড রোবট ভবিষ্যতের শিল্প ও লজিস্টিক খাতে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
এই প্রতিযোগিতার মধ্যেই আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিষ্ঠান আগিলিটি রোবোটিক্স, যা এবার পাবলিক মার্কেটে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি স্পেশাল পারপাস অ্যাকুইজিশন কোম্পানি (SPAC) মার্জারের মাধ্যমে।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়াতে পারে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার এবং এর মাধ্যমে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হতে পারে। চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি; শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনার পর এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা থেকে স্পিন-অফ হিসেবে যাত্রা শুরু করা আগিলিটি রোবোটিক্স বর্তমানে সালেমে অবস্থিত একটি বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে কাজ করছে। কোম্পানিটি মূলত গুদাম ও শিল্প কারখানার জন্য দ্বিপদ (বাইপেডাল) হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করে।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পেগি জনসন জানান, পাবলিক মার্কেটে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো এবং ইতিমধ্যে থাকা অর্ডারগুলো সময়মতো সরবরাহ করা। তাঁর ভাষায়, এটি কোম্পানির জন্য “একটি দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ”।
আগিলিটির তৈরি প্রধান রোবট ‘ডিজিট’ প্রায় ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এবং এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ভারী বস্তু পরিবহন ও গুদাম ব্যবস্থাপনার কাজের জন্য। রোবটটির পেছন দিকে বাঁকানো হাঁটুর নকশা এটিকে সংকীর্ণ ও উচ্চতাভিত্তিক গুদাম পরিবেশে কার্যকরভাবে চলাচলে সাহায্য করে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে অ্যামাজন, জিএক্সও লজিস্টিকস, টয়োটা, শেফলার এবং মারকাডো লিব্রে’র মতো বড় গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছে। প্রায় ১,০০০ রোবটের জন্য ইতিমধ্যে বহু বছরের চুক্তিভিত্তিক আয় নিশ্চিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল যেমন ক্লড ও জেমিনাই ব্যবহার করা হচ্ছে, যা রোবটকে উচ্চস্তরের নির্দেশনা বুঝতে সহায়তা করে। তবে মূল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে কোম্পানিটি রোবটের শারীরিক সক্ষমতা ও বাস্তব পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হিউম্যানয়েড রোবটিক্স খাতে বিনিয়োগের এই দ্রুত প্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে গুদাম, লজিস্টিকস এবং শিল্প উৎপাদনে মানুষের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় রোবটের ব্যবহার আরও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। তবে গৃহস্থালি ব্যবহারে রোবট আসতে এখনও এক দশকের বেশি সময় লাগতে পারে বলে কোম্পানিগুলোর ধারণা।
শ্রমঘাটতি এবং শিল্প খাতে কঠিন কাজের জন্য কর্মী সংকট বাড়তে থাকায় হিউম্যানয়েড রোবট ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।