- ০৮ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম
দেশে হামের বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই সংকটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বর্তমান সরকারের নেই। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এলডিপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দেন বলে দলটির দাবি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। যারা এ সংকটের জন্য দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে শুধু আগের সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শিশু মৃত্যুর মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক নয় এমন অভিযোগ এখন সংসদের ভেতর থেকেই আসছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং বিচার ও সংস্কারের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে এনসিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। ভোটাধিকার ও সংখ্যালঘু অধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল অবস্থান নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করা অনেক রাজনৈতিক কর্মী বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় হতাশ হয়ে নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের সন্ধান করছেন।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনুষ্ঠানে কয়েকশ নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। মিলনায়তনের ভেতরে নেতা-কর্মীদের হট্টগোল এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন সাংবাদিককে স্থান পরিবর্তন করতে দেখা যায়।
এদিকে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।