Wednesday, February 18, 2026

গুমের শিকার থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়


ছবিঃ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের শিকার হওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ এবার দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের পর মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নেয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন করেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তর দেওয়া হয় সালাহউদ্দিন আহমদকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ (৬৩) কক্সবাজার–১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সংসদীয় যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। একই বছরের পরবর্তী নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচন করতে না পারলেও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে এক নাটকীয় অধ্যায়ের মুখোমুখি হন ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে। রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিএনপি দাবি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যায়। প্রায় দুই মাস পর ভারতের শিলং শহরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানকার পুলিশ জানায়, উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে তিনি খালাস পান। পরবর্তীতে আপিলের পর ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্তভাবেও খালাস লাভ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ পড়াশোনা করেন চট্টগ্রাম কলেজে এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে সরকারি চাকরি শুরু করেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর পেশা আইন ও ব্যবসা। আয় আসে চাকরি, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া থেকে। তাঁর ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটির বেশি এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় ৮ কোটির কাছাকাছি। নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাঁর নামে। বছরে তাঁর আয় ৬ কোটিরও বেশি বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হলফনামা অনুযায়ী, অতীতে তিনি ৩৮টি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সেখানে দেওয়া হয়নি।

গুমের শিকার থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া—সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবনের এই রূপান্তর দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন