- ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পঁয়ষট্টি বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কাটানো ল্যারি আর জোআনের গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন সিনেমা ‘ইটারনিটি’, যা ফ্যান্টাসি রোমান্টিক কমেডি ঘরানার মধ্যে অভিনব এক ধারণা উপস্থাপন করছে। পরিচালনা করেছেন আইরিশ নির্মাতা ডেভিড ফ্রেইন, এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলিজাবেথ ওলসেন, মাইলস টেলার ও ক্যালাম টার্নার।
সিনেমার গল্প শুরু হয় ল্যারি ও জোআনের সঙ্গে, যারা পরিবারের একটি জেন্ডার রিভিল পার্টিতে যোগ দিতে যান। উৎসবের আনন্দের মাঝে লুকানো থাকে জোআনের ক্যানসারের ভয়ংকর সত্য। হঠাৎ ল্যারির হাতে আসে জোআনের প্রাক্তন স্বামী লিউকের ছবি, যা ল্যারির মৃত্যু নিয়ে আসে এবং এখান থেকেই শুরু হয় সিনেমার আফটারলাইফ বা পরকালের গল্প।
ল্যারি মারা যাওয়ার পর সে আবিষ্কার করে নিজেকে এক ব্যস্ত ও জটিল ট্রানজিট স্টেশনের মতো পরকালে। এখানে তার যৌবন ফিরে আসে এবং সে পরিচিত হয় ‘আফটারলাইফ কনসালট্যান্ট’-এর সঙ্গে, যিনি মৃত আত্মাদের জন্য তাদের পছন্দের জগত বেছে দিতে সাহায্য করেন। দর্শক দেখতে পান বিভিন্ন থিমযুক্ত জগতের উদ্ভাবনী ও মজার উপস্থাপনায়, যেখানে কেউ চাইলে ‘বিচ ওয়ার্ল্ড’, কেউ চাইলে ‘স্টুডিও ৫৪’ বা ‘ম্যান-ফ্রি ওয়ার্ল্ড’-এ থাকতে পারে।
কিন্তু সিনেমার মূল নাটক শুরু হয় যখন জোআন পরকালে পৌঁছায়। এখানে তাকে তার প্রাক্তন স্বামী লিউকের সঙ্গে পুনর্মিলন করতে হবে। ল্যারি ও লিউক—দুই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে জোআনকে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরিচালক ডেভিড ফ্রেইন এই ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের মধ্যে স্মৃতি, মায়া ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার সূক্ষ্ম মিল রেখেছেন।
অভিনয় দিক থেকে এলিজাবেথ ওলসেন জোআনের চরিত্রে অভিনব সাফল্য অর্জন করেছেন। তার দ্বিধা, নার্ভাসনেস এবং দুই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে টানাপোড়েন দর্শকদের মুগ্ধ করে। মাইলস টেলার ল্যারি চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন, যেখানে ল্যারি শেখে ভালোবাসার জন্য লড়াই করতে হয়। ক্যালাম টার্নার লিউকের চরিত্রে রোমান্টিক ও শান্ত আভিজাত্য দেখিয়েছেন।
সেট ডিজাইন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টসও দর্শকদের চোখে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। আফটারলাইফের হোটেল, স্টেশন ও বিভিন্ন কাল্পনিক জগতের দৃশ্যগুলোর নান্দনিকতা প্রশংসার যোগ্য। তবে সিনেমার শেষের দিকে কিছু অংশে চিত্রনাট্যের যুক্তি কিছুটা দুর্বল মনে হলেও গল্পের ভাবনা এবং প্রেমের গভীরতা দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম।
১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের এই সিনেমা অ্যাপল টিভি-তে স্ট্রিমিং করা যাচ্ছে। ফ্যান্টাসি রোমান্টিক কমেডি প্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন ধরনের উপভোগ্য অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রেম, স্মৃতি ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে অনন্তকালীন ভালোবাসার গল্প ফুটে উঠেছে।