- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
নতুন বছরের শুরুতেই আবারও ‘অ্যাকুই-হায়ার’ কৌশলে এগোচ্ছে ওপেনএআই। নেতৃত্ব উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম কনভোগোর পেছনের পুরো টিমকে নিজেদের দলে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কনভোগোর প্রযুক্তি বা মেধাস্বত্ব কেনা হচ্ছে না। বরং প্রতিষ্ঠানটির তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাট কুপার, ইভান ক্যাটার ও মাইক গিলেটসহ পুরো দলকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যারা ওপেনএআইয়ের ‘এআই ক্লাউড’ সংক্রান্ত প্রকল্পে কাজ করবেন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো চুক্তিটি শেয়ারভিত্তিক।
এই অধিগ্রহণের ফলে কনভোগোর মূল পণ্যটি ধাপে ধাপে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
কনভোগোর যাত্রা শুরু হয়েছিল এক ধরনের ‘উইকএন্ড হ্যাকাথন’ থেকে। সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাট কুপারের মা একজন এক্সিকিউটিভ কোচ। তাঁর প্রশ্ন থেকেই ভাবনাটি আসে—এআই কি কোচদের রিপোর্ট লেখার সময়সাপেক্ষ কাজ সহজ করে দিতে পারে, যাতে তারা মানুষের সঙ্গে কাজের দিকটিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন? সেই ধারণা থেকেই গড়ে ওঠে কনভোগো। গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি হাজারো কোচকে সহায়তা করেছে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে স্টার্টআপটি।
অধিগ্রহণের খবর জানিয়ে পাঠানো এক ইমেইলে কনভোগোর টিম জানায়, তাদের কাজের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—নতুন এআই মডেলের সক্ষমতা ও বাস্তব জীবনের কার্যকর ফলাফলের মধ্যকার ব্যবধান কমানো। তাদের মতে, নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও ব্যবহারবান্ধব অভিজ্ঞতা তৈরি করাই সেই ব্যবধান ঘোচানোর মূল চাবিকাঠি।
ইমেইলে সহপ্রতিষ্ঠাতারা বলেন, ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়ে তারা বিভিন্ন শিল্পখাতে পেশাজীবীদের জন্য এআইকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলতে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
পিচবুকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এটি ওপেনএআইয়ের নবম অধিগ্রহণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধিগৃহীত প্রতিষ্ঠানের পণ্য হয় ওপেনএআইয়ের নিজস্ব ইকোসিস্টেমে যুক্ত হয়েছে, নয়তো টিম যুক্ত হওয়ার পর পণ্যটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে যুক্ত ‘আইও প্রোডাক্টস’, যেখানে এখনো আলাদা পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কনভোগো টিমকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ওপেনএআই আবারও স্পষ্ট করল যে তারা অধিগ্রহণকে কেবল বাজার সম্প্রসারণ নয়, বরং দক্ষ জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবেই ব্যবহার করছে।